জানিনা কিভাবে বলবো, কেমন করে বলবো।

প্রিয় ম্যাপারস-

সালাম ও শুভেচ্ছা নিবেন।  আজ আমার ম্যাপিংয়ে 10000 এডিট পূর্ণ হয়েছে-সে উপলক্ষ্যেই আপনাদের সামনে আসা, দু কথা বলার চেষ্টা করা।

সেই শুরু ২০১২ সালের কোনো একদিন। হঠাৎ করেই কারো ফেইসবুক থেকে চলে আসি ম্যাপিং বাংলাদেশ এর পেইজে। নতুন কিছু দেখলে বাড়তি উৎসাহের কমতি কোনো কালেই আমার ছিলনা, এ জন্য জীবনভর বিড়ম্বনাও কম পোহাইনি।  ম্যাপিং বাংলাদেশ পেইজে এসে এখানের ম্যাপারদের আন্তরিকতা উৎসাহ আর সহযোগিতার মনোভাব দেখে অভিভূত হয়েছিলাম। নীরবে ভিজিট শেষ করে আবারো ফিরে যাই আগের ঠিকানায়। কিন্তু ম্যাপারদের আন্তরিকতা আর তাদের বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম দায়িত্ববোধ আমাকে আবার টেনে আনে এখানে। রোজি. করতে বাধ্য করে। আমিও নাম লেখাই ম্যাপ মেকারে। যাত্রা শুরুর অভিজ্ঞতা খুবই ভালো ছিলো। মাঝে মাঝে সমস্যায় পড়লেই টিউটোরিয়াল পড়তাম। বুঝার চেষ্টা করতাম। সিনিয়র ম্যাপারদের আলোচনা মন্তব্য পরামর্শ গুলো গুরুত্ব দিয়ে মনে রাখার চেষ্টা করতাম।  তারপর কাজে নামা, নামতে গিয়ে সবার বেলাতেই যা হয়, আমার ক্ষেত্রেও তাই-নিজের এলাকার স্থাপনা বা পথ ঘাট গুলোতে কাজ করা। কিন্তু এক ভদ্রলোককে পাই যিনি আমার এলাকার প্রায় সব কাজই শেষ করে রেখেছেন, এই মানুষটিকে আমি জানতে চাইলাম মনে মনে। তিনি আমাদের প্রিয় ম্যাপার আলমগীর স্যার। যেখানেই কাজ করতে যাই সেখানেই আলমগীর স্যার। দারুন ভক্ত  হয়ে যাই তার,কিন্তু কথা হয়নি কখনো। তারপর কাজ করতে গিয়েছিলাম আমার নিজ এলাকার পাশে রৌমারী, রাজিবপুর উপজেলায়। আমাদের এলাকা থেকে সেসব এলাকা বেশ যাতায়াত কম, বাস চালু হয়েছে মাত্র কয়েক বছর হলো। ভেবেছি এখানে কে আসবে? কিন্তু সেখানে গিয়ে পেলাম আমাদের গর্ব ম্যাপার দাউদ করিম স্যার কে। আমি হতবাক একজন মানুষ কতভাবে কত স্থানে নিজের উপস্থিতি জানান দিতে পারে-সেটা তাকে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। অসাধারণ এই ম্যাপারকে হিংসা করেছি মনে মনে শ্রদ্ধাও করছি সব সময়। কাজের কাজ তেমন বাকী রাখার ম্যাপার তারা নন। এর পর কাজ করতে গিয়েছি দিনাজপুরে, আমার নতুন পোস্টিং সেখানে। এখানে এসে সব খানেই প্রায় পেয়ে গেলাম আরমান স্যারকে-হতবাক না হয়ে পারিনি এখানেও। মেলান্দহ, জামালপুরে, শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে কাজ করতে গিয়ে যাকে চোখের সামনে থেকে সরাতে পারিনি তিনি আমাদের সাইফুল্লাহ স্যার। আরেক জন যাকে জানিনা চিনিনা, কিন্তু ভালবাসি তার কাজকে, তার ডেডিকেশন কে-আমার কাছে তিনি একটি প্রতিষ্ঠান বিশেষ, তিনি ট্রুম্যাপ।

ম্যাপিং-এ এসে একমাত্র যার সাথে আমার কথা হয়েছে, তিনি আমাদের তানজিল ভাই। অসাধারণ এই মানুষটির জন্যই আমি স্লোগতির ইন্টারনেটের কারনে বিতাড়িত হয়ে আবারো ফিরে এসেছিলাম গত বছর। এই সব ম্যাপারদের মনে না রেখে উপায় আছে? ইদানিং যার পিছে পিছে হাটছি তিনি আমাদের প্রতিভাবান ডাক্তার যায়েদ স্যার। কোথায় তার উপস্থিতি নেই-সেটা বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ আমি যেখানে যেখানে গিয়েছি সেখানেই কন্ট্রিবিউটর হিসাবে ছোট একটি নাম ডা. যায়েদ কে পেয়েছি।  মানব সেবার সাথে তিনি দিয়ে যাচ্ছেন সাইবার সেবা-ইচ্ছা থাকলে সবই সম্ভব, তিনি তা দেখিয়েছেন।।

ব্যক্তিগত কিছু অবজারভেশন তুলে ধরছি-যা আমার কাছে স্বত:সিদ্ধ হিসাবে ম্যাপিংয়ে কাজে লেগেছে-

১.  যে রাস্তার শুরু আছে, তার একটি শেষও থাকবেই;

২. এমন কোনো বাজার নেই যেখানে কমপক্ষে ৩টি রাস্তার সংযোগ থাকবেনা;

৩. এমন কোনো বাজার নেই যেখানের পাশে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকবেনা;

৪. এমন কোনো পথ নেই যে পথে হাটা যায়না;

৫. বাংলাদেশে যে পরিমান রাস্তা আছে, সেগুলোর পাশের গাছ গুলো ফলজ হলে বাংলাদেশ ফল রপ্তানীতে বিশ্বে ১ থেকে ৩ এর মধ্যে থাকতো!

৬. গুগলে জোড়া দেওয়া চিত্রের মধ্যেও ভুল না থেকে পারেইনা;

৭. এমন কোনো রেললাইন নেই, যার পাশেই হাটার পথ থাকবেনা;

৮.  যেকোনো এলাকার বাজারটি প্রথমে চিহ্নিত করতে পারলে রাস্তা গুলোর নামকরণ সহজ হয়;

৯.  এমন কোনো ফিচার নেই, যেখানে কমপক্ষে ৩ জনের হাত না পড়লে আলোর মুখ দেখতে পারবে;

১০. ঘরের খেয়ে বনের মহিষ তাড়ানোর মতো মইশাল না হলে কেউ ম্যাপার হওয়ার যোগ্যতা রাখেনা। ইত্যাদি ইত্যাদি।

 

নিজের সম্পর্কে দুই কথাঃ

ব্যক্তিগত জীবনে আমি একজন দরিদ্র শিক্ষক। সরকারি কলেজে ইকনোমিক্স পড়ি ও পড়াইতেছি ২০০৩ সাল থেকে। বর্তমান কর্মস্থল দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজ।  নিজ জেলা শেরপুর । অবসর কাটে ম্যাপিংয়ে, ব্লগে লেখালেখি করে, আড্ডা দিয়ে।

 

ভবিষ্যত প্রত্যাশা:

আপনাদের সাথে থাকতে চাই, ম্যাপিংয়ে কাজ করতে চাই।

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

মন্তব্য করুন

সাবমিট

© ম্যাপিং বাংলাদেশ ব্লগ | সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

Powered by Mapping Bangladesh